কলকাতার কাছেই তিন নদীর সঙ্গম! নিজেকে হারাতে চলে যান উইকেন্ডে….

কলকাতার কাছেই তিন নদীর সঙ্গম! নিজেকে হারাতে চলে যান উইকেন্ডে….

একটা দুটো নয়, তিন – তিনটে নদীর সঙ্গম। আর নদীর ধার ঘেঁষে গড়ে ওঠা জনবসতির আলোয় মায়াবী সন্ধ্যা, পাখির কুজন, বিস্তীর্ণ জলরাশি…… এমন জায়গায় চলে এলে মনে হবে আক্ষরিক অর্থেই বসন্ত এসে গেছে। এখনও খুব বেশি গরম পড়েনি। চাঁদিফাটা গরম পড়ার আগেই টুক করে ঘুরে আসবেন নাকি এমন জায়গায়?

কলকাতার একদম কাছেই কিন্তু এমন জায়গা মিলবে। হাওড়া জেলায় হুগলি নদীর তীরে বেড়ানোর মনোরম জায়গা গাদিয়াড়া। সড়কপথে কলকাতা থেকে দূরত্ব প্রায় ৮৭ কিলোমিটার। এখানে জলরাশি অফুরন্ত ও চওড়া। বর্ষায় নদীর সজীবতা অনেক বেড়ে যায়। এই জায়গায় দামোদর মিশেছে হুগলিতে। সেই হুগলিতে নৌকা নিয়ে নদীভ্রমণে যেতে পারেন। সেখান থেকে পৌঁছে যাবেন আরেক সঙ্গমে – হুগলি ও রূপনারায়ণ নদীর মিলন স্থল। তিনটি নদী আলাদা আলাদা রংয়ের জলধারা নিয়ে পাশাপাশি বয়ে চলেছে। হুগলি (গঙ্গা), রূপনারায়ণ ও দামোদর…… এই তিন নদীর সঙ্গমে আরও মায়াময় হয়ে উঠেছে গাদিয়াড়া।

আরো পড়ুন:  একটি পানের দাম ১০০০ টাকা,মিলবে কলকাতার বুকে প্রায় ৯০ বছরের পুরোনো এই দোকানে

এখানে তিনটি নদী একত্রিত হয়ে সমুদ্রের দিকে অগ্রসর হয় বলে জলের স্রোত খুব বেশি। তবে শুধু নদীর সঙ্গম নয়। এখানকার সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত না দেখলে কিন্তু গাদিয়াড়া ভ্রমণ বৃথা। এছাড়া এখানে ক্লাইভের প্রাচীন দুর্গ ও লাইটহাউস দেখার আছে। আর আড়ম্বরহীন সহজ সরল গ্রাম্য পরিবেশ তো উপরি পাওনা। শীতে এলে কিন্তু জমাটি পিকনিকও হয়ে যাবে। সেই সময় এখানে ভাল খেজুরের গুড় পাওয়া যায়।

আরো পড়ুন:  কৃষ্ণচন্দ্র দত্ত, কুকমি এবং প্রায় দুশো বছর ভারতের রান্নাঘরে এক বাঙালি ব্র্যান্ডের আধিপত্য

 

 

হুগলির ধারে আরও একটি দারুন বেড়াবার জায়গা হল গেঁওখালি। গাদিয়াড়া ও গেঁওখালির মধ্যে শুধু নদীর ব্যবধান। গাদিয়াড়া হাওড়া জেলায় আর গেঁওখালি পূর্ব মেদিনীপুর জেলার অন্তর্গত। এদিকে এলে আবার মহিষাদল রাজবাড়িও ঘুরে আসতে পারেন।

তাহলে আর ভাবছেন কেন? কোনও এক উইকেন্ডে বন্ধু কিংবা পরিবার নিয়ে গাদিয়াড়ায় একদিন দু’দিন কাটিয়ে দিতেই পারেন। গাদিয়াড়ায় নদীর পাড়েই পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন উন্নয়ন নিগমের নিজস্ব প্রপার্টি রয়েছে। নাম রূপমঞ্জরী ট্যুরিজম প্রপার্টি। এছাড়াও অনেক বেসরকারি হোটেল ও লজের ব্যবস্থা আছে। আর গেঁওখালিতে হলদিয়া ডেভেলপমেন্ট অথরিটির ত্রিবেণী সঙ্গম ট্যুরিস্ট কমপ্লেক্স ও সেচ দফতরের বাংলো আছে।

আরো পড়ুন:  বাংলার প্রথম সার্বজনীন বারোয়ারি পুজো শুরু হয়েছিল এই স্থানেই

এই জায়গাগুলোতে সড়কপথ কিংবা রেলপথ দুইভাবেই যেতে পারেন। ট্রেনে গেলে হাওড়া স্টেশন থেকে লোকাল ট্রেন ধরে বাগনান যাবেন। সেখান থেকে বাসে শ্যামপুর হয়ে গাদিয়াড়া। এসপ্ল্যানেড বাস টার্মিনাস থেকে গাদিয়ারার বাস পাওয়া যায়। নিজের গাড়িতে যেতে চাইলে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে ধরে বাগনান চলে যান। তারপর বাঁ দিকে লেভেল ক্রসিং পেরিয়ে যাবেন শ্যামপুরের দিকে। শ্যামপুর পার করেই গাদিয়াড়া। ঘণ্টাখানেক সময় লাগবে পৌঁছতে।

Piyali Banerjee

Piyali Banerjee

করোনাকে না করো

ভাইরাসের কবলে আজ সারা বিশ্ব,গৃহবন্দী বিশ্ববাসী।বন্ধ দ্বার খুলতে তাই নিজেদের সুরক্ষিত রাখুন,হাত ধুয়ে নেমে পড়ুন এই ভাইরাস দমনে।