ইস্টবেঙ্গল পাঁচ গোলে হারাল মোহনবাগানকে,সেই জয়ের কথা শুনে সাড়া দিলেন কোমায় থাকা শচীন কর্তা

ইস্টবেঙ্গল পাঁচ গোলে হারাল মোহনবাগানকে,সেই জয়ের কথা শুনে সাড়া দিলেন কোমায় থাকা শচীন কর্তা

অনেক পুরোনো দিনের কথা । কুমিল্লার মুন্সিবাড়ির ছেলে মর্তুজ মিয়া আর শচীন দেব বর্মন ছিলেন বাল্যবন্ধু।দুজনে প্রায়ই একসাথে ঘুরে বেড়াতেন | এমনই একদিন দুজনে রাস্তায় ঘুরছেন, শচীন দেব গুনগুনিয়ে গান শুরু করলেন | সেই গান শুনতে পেয়ে মুগ্ধ হয়েছিলেন নাবালক মিয়া | তিনি তার এক চাকর সফর আলীকে বলেন রাস্তায় যে গান গাইছে তাকে নিয়ে আসার জন্যে | সফর আলী শচীন দেব বর্মনের কাছে এসে বলেন, “ হুজুর আপনাকে ডাকছে।” ভয় পেয়ে যান শচীন কর্তা | কিন্তু সেই চাকরও নাছোড়বান্দা | শেষমেশ রাজি হলেন শচীন দেব | হাজির হলেন জমিদারের সামনে | জমিদার বললেন “তোমার গানের গলা এত ভাল, কি কি বাদ্যযন্ত্র বাজাতে পার তুমি? ” শচীন দেব বললেন আমার বাদ্যযন্ত্র নেই | তখনই জমিদার তাকে হারমোনিয়াম, তবলা, পিয়ানোসহ কয়েকপ্রকার বাদ্যযন্ত্র কিনে দেন | সেই শুরু | তারপর আর কখনও থেমে থাকেননি তিনি |

আরো পড়ুন:  দেওয়াল হারিয়ে যাবে না তাই পরিচিতদের ঠিকানা,ফোন নম্বর মেসের দেওয়ালে লিখে রাখতেন শিবরাম চক্রবর্তী

শচীন দেব বর্মন ছিলেন ত্রিপুরার চন্দ্রবংশীয় মানিক্য রাজপরিবারের সন্তান।শচীন দেব বর্মনের বাবা ছিলেন একজন সেতারবাদক ও গায়ক । তার কাছেই তিনি নেন সঙ্গীতের তালিম | এরপর শচীন দেব বর্মন গান শেখেন কানাকেষ্ট, ওস্তাদ আফতাবউদ্দিন খাঁ, ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ, ফৈয়াজ খাঁ, ভীষ্মদেব চট্টোপাধ্যায়, আব্দুল করিম খাঁ প্রমুখ সংগীতজ্ঞের কাছে | সঙ্গীতের মাধ্যমে তিনি জয় করেছেন গোটা ভারত | ফিল্মফেয়ার, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, সঙ্গীত নাটক একাডেমি অ্যাওয়ার্ড, বিএফজেএ অ্যাওয়ার্ডসহ ভারতের সঙ্গীতের সব পুরস্কার ছিল শচীন দেব বর্মন দখলে | ১৯৬৯ সালে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হয়েছিলেন তিনি | পেয়েছেন শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালক, শ্রেষ্ঠ গায়কের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার |

আরো পড়ুন:  ফকল্যান্ডের যুদ্ধে ব্রিটিশরা হত্যা করেছিল ৬৫০ আর্জেন্টাইন সৈন্যকে,মাঠে ব্রিটিশদের জবাব দিয়েছিলেন মারাদোনা

কিন্তু শচীন দেব বর্মনের আরেকটি ভালবাসা ছিল – সেটি হল ফুটবল | ইস্টবেঙ্গলের অন্ধ ভক্ত ছিলেন তিনি | ইস্টবেঙ্গল ক্লাব ছিল তাঁর মা | ইস্টবেঙ্গল মোহনবাগানের খেলা হলে তিনি সবকিছু ছেড়ে মাঠে যেতেন খেলা দেখতে | ইস্টবেঙ্গল হারলে খাওয়া বন্ধ করে দিতেন, ঘরে বসে কাঁদতেন | এমনকি খেলা শুরুর আগে ইস্টবেঙ্গল খেলোয়াড়দের পেপ টকও দিয়ে আসতেন শচীন দেব বর্মন | ১৯৭৫ সালে ‘মিলি’ সিনেমায় গান রচনা করতে গিয়ে হঠাৎ প্যারালিসিস হয়ে যায় তাঁর | চলে যান কোমায় | হাসপাতালে শত চেষ্টা সত্ত্বেও কোনও সুবিধে হচ্ছিল না।চরম উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছিলেন পুত্র রাহুল দেব বর্মন | এরই মধ্যে ঐতিহাসিক আইএফএ শিল্ড ফাইনালে মোহনবাগানকে ৫-০ গোলে হারিয়ে শিল্ড জেতে ইস্টবেঙ্গল | সেই কথা একদিন রাহুল দেব বর্মন হাসপাতালে গিয়ে চিৎকার করে কোমাচ্ছন্ন শচীন দেব বর্মনকে জানান | সেই জয়ই যেন আবারও প্রাণ ফিরিয়ে এনেছিল শচীন কর্তার | ওই কথা শুনে তিনি চোখ মেলে তাকান শেষবারের জন্যে | তারপর আর তাঁর সাড়া পাওয়া যায়নি | আজ হাজার খুঁজলেও শচীন কর্তার মত অন্তঃপ্রাণ লাল-হলুদ সমর্থক হয়ত আর দুটি পাওয়া অসম্ভব।

আরো পড়ুন:  মৃত্যুর আগে প্রায় সংজ্ঞাহীন, তখনও তাঁর ডান হাত বারবার শূন্যে চালিয়েছেন লেখার প্রচেষ্টায়

দেশ-বিদেশের বড় বড় শিল্পীদের সঙ্গে সঙ্গীত চর্চা করেও ভুলে যাননি বাংলার কথা | নিঃসঙ্কোচে গেয়েছেন,
“কই সে হাসি, কই সে খেলা, কই সে বুনোরোল
আমি সব ভুলে যাই, তাও ভুলি না বাংলা মায়ের কোল……”

-অভীক মণ্ডল
তথ্য : রোর, কলকাতা টাইমস ২৪

Avik mondal

Avik mondal

Related post

করোনাকে না করো

ভাইরাসের কবলে আজ সারা বিশ্ব,গৃহবন্দী বিশ্ববাসী।বন্ধ দ্বার খুলতে তাই নিজেদের সুরক্ষিত রাখুন,হাত ধুয়ে নেমে পড়ুন এই ভাইরাস দমনে।