তিলোত্তমার স্ট্রিট ফুডের প্রাণ,ডেকার্স লেনের ‘চিত্তবাবুর দোকান’ আজও বাঙালির নস্টালজিয়া

তিলোত্তমার স্ট্রিট ফুডের প্রাণ,ডেকার্স লেনের ‘চিত্তবাবুর দোকান’ আজও বাঙালির নস্টালজিয়া

কলকাতার স্ট্রিট ফুড হার মানাবে অনেক নামি দামি রেস্তোরাঁর স্বাদকেও। শুধু তাই নয়, ভারতের অন্যান্য শহরের তুলনায় এখানে অনেক কম টাকাতেও পেট ভর্তি খাবার পাওয়া যায়। তিলোত্তমায় এমনই এক খাবারের জায়গা হল ডেকার্স লেন। মানুষের মনের রাস্তার খোঁজ নাকি রসনার মধ্য দিয়ে যায়। আর সেই রসনারই খোঁজ পেয়ে যাবেন এই ডেকার্স লেনে। কলকাতার বুকে এক একচেটিয়া খাবারের গলি, যার শুরু থেকে শেষ অবধি শুধুই খাবার আর খাবার। পুরি সবজি, খিচুড়ি থেকে ফ্রায়েড রাইস – রেজালা কিংবা লস্যি – ম্যাঙ্গো জুস….. পাবেন সব খাবারই।

আর এই ডেকার্স লেনেরই অন্যতম বিখ্যাত দোকান ‘চিত্তবাবুর দোকান’। এই দোকানের ইতিহাস কিন্তু কম পুরনো নয়। বছর ৫৬ পিছিয়ে গেলে দেখতে পাবেন ওপার বাংলা থেকে কিশোর বয়সে চলে আসা এক যুবক খুলে বসলেন তাঁর চায়ের দোকান, এই আজকের ডেকার্স লেনে। তারপর গঙ্গা দিয়ে অনেক জল বয়স গেছে। অনেক বদলেছে শহর কলকাতা। আর সেদিনের সেই যুবক চিত্তরঞ্জন রায় তাঁর দোকানের ডালপালা মেলে দিয়েছেন। ছেলে, ভাই, ভাইপোদের হাত বদল হয়ে উত্তরাধিকার নিয়ে হাসিমুখে বর্তমানে দোকান সামলাচ্ছেন চিত্তবাবুর ভাইপো।

আরো পড়ুন:  বাঙালির হারিয়ে যাওয়া শীতকালের গল্প

অর্ধ শতাব্দী পেরিয়ে আসা কলকাতার এই নামজাদা চায়ের দোকান কিন্তু নিজেদের শুধুমাত্র চায়ের কাপেই সীমাবদ্ধ রাখেননি। চায়ের গণ্ডি ছাড়িয়ে দিনে দিনে খাবারের তালিকা বাড়তেই থেকেছে ক্রমশ। ঘুগনি, টোস্ট, চিকেন স্টু, ফিশ ফ্রাই, ফিশ রোল, চিকেন পকোড়া হয়ে এখন সাম্প্রতিকতম সংযোজনে খিচুড়ি।

‘চিত্তবাবুর দোকান’ এখন দুটো দোকান মিলিয়ে। নিরামিষকে আমিষের ছোঁয়া থেকে আলাদা রাখতেই পাশের দোকানটিও কিনে নেন তাঁরা। এখন দুটি দোকান ঘরে স্বতন্ত্রভাবে চলে আমিষ ও নিরামিষের রান্না এবং পরিবেশন। চিত্তরঞ্জন রায়ের এই দোকানে কলকাতার অফিস পাড়ার প্রাণ। এখানে ৭০ টাকার চিকেন স্টু-এর ঝোলে দিব্যি ডুবে যায় ৭ টাকার পাউরুটি। ৩০ টাকার প্লেট ভর্তি খিচুড়ি খেয়ে মন-পেট দুইই তৃপ্ত হয়। কাসুন্দি সহযোগে প্লেটের পর প্লেট পুরু পুরের ফিশফ্রাইও শেষ হয়ে যায়। তবে এই সবকিছুর মধ্যেও নিজেদের ঐতিহ্য ঠিক রেখেছে কর্তৃপক্ষ।

আরো পড়ুন:  গ্রামবাংলার থেকে হারিয়ে যাচ্ছে কড়ুই

একদম শুরুতে এই দোকানের প্রতিষ্ঠাতা নাকি বেশ কিছুদিন চায়ের স্টল চালিয়েছেন মোহনবাগান তাঁবুতে। তারপর রাধাবাজার স্ট্রিটে একটি ভাড়ার দোকান। শোনা যায় সেখান থেকে টাকা জমিয়ে ৫০ টাকা সেলামিতে একটি ছোটো দোকানঘর কিনে তিনি শুরু করেন ডেকার্স লেনের রাজত্ব এবং খাবারের স্বাদে জয় করতে থাকেন মানুষের মন। স্বাভাবিকভাবেই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বহু বাঁধাধরা খদ্দেরও পেয়ে যান এই সৎ ব্যবসায়ী। তাঁর আদর্শে অনড় থেকেই দোকানটি চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন উত্তর পুরুষেরা, সঙ্গে জুড়েছে নতুন নতুন পদ।

আরো পড়ুন:  অন্তর্দৃষ্টি দিয়েই সুরসাধনা করতেন তিনি,পঙ্কজকুমার মল্লিকের কথায় ''সে যুগের শ্রেষ্ঠ পুরুষ গায়ক কৃষ্ণচন্দ্র দে''

নানা ধরনের খাবার তৈরি হলেও খাবারের মানের সঙ্গে কোনোদিন আপস করেনি এই দোকান। এখানে এখনও সন্ধের পর কোনও খাবার পড়ে থাকে না। রোজের খাবার রোজ শেষ হয় এবং প্রতিদিন টাটকা খাবার মানুষকে খাওয়ানোতেই গর্ববোধ করেন দোকান কর্তৃপক্ষ।

দোকানের গলি দিয়ে আরও খানিক এগোলে চিত্তদার সুরুচি হোটেল। ১৯৯৩ সালে এই হোটেলটিও খোলা হয় একই মালিকানায়। শান্ত সুন্দর পরিবেশে বসে খেতে চাইলে এই জায়গাটি আপনার জন্য আদর্শ। খিচুড়ি ছাড়া দুটি দোকানের বাকি সমস্ত পদ প্রায় একই দামে পাবেন এখানেও। ব্যাস আর কী! কোনও এক নির্জন দুপুরে হারিয়ে যাবেন নাকি চিত্তদার দোকান আর হোটেলে? হারালে যে ঠকবেন না এ হলফ করে বলতে পারি।

Piyali Banerjee

Piyali Banerjee

করোনাকে না করো

ভাইরাসের কবলে আজ সারা বিশ্ব,গৃহবন্দী বিশ্ববাসী।বন্ধ দ্বার খুলতে তাই নিজেদের সুরক্ষিত রাখুন,হাত ধুয়ে নেমে পড়ুন এই ভাইরাস দমনে।