মহানগরী কলকাতার বুকে এক টুকরো তিব্বতের স্বাদ

মহানগরী কলকাতার বুকে এক টুকরো তিব্বতের স্বাদ

বিবিধের মাঝে মিলন মহানের সংজ্ঞা আমাদের ভারতবর্ষ বারবার প্রমাণ করেছে। কিন্তু তবুও এমন অনেক জায়গাই অজ্ঞাত রয়ে গেছে আজও।কলকাতা তেমনই এক শহর, যার আনাচে কানাচে আজও ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে নানান সংস্কৃতি। শীত পড়লেই শহরের রাস্তায় ভুটানিরা তাদের শীতের পসরা সাজিয়ে বসে। ভারতে ১৯৫১ সাল পর্যন্ত তিব্বতিরা পর্যটক হিসেবে আসতেন। সেই সময়েই চিন তিব্বত দখল করে ফেলে,সেই চরম সময়ে অল্প কয়েকজন তিব্বতি আশ্রয় নেন কলকাতার বুকে। প্রত্যেক বছরের শীতে আজও ওয়েলিংটন স্কোয়ারে রাস্তার ধারে স্টলে পশমজাত দ্রব্যের পসরা সাজিয়ে বসেন তিব্বতিরা।

আরো পড়ুন:  নেটিভদের আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন,খ্রিষ্টানদের গোরস্থানে জায়গা হল না ডেভিড হেয়ারের

 

 

এখন কলকাতায় তিব্বতিদের এক নিজস্ব জায়গা গড়ে উঠেছে। দক্ষিণ কলকাতায় তারা গড়ে তুলেছেন এক বৌদ্ধ মঠ, চক্রবেড়িয়া লেনে,নাম কর্ম গোন মঠ। “কর্ম গোন” কথার অর্থ হল ‘কর্মের মন্দির’ । এ যেন এক অন্য জগৎ,কলকাতার বুকে এক টুকরো তিব্বত। তিব্বতি খাবার-দাবার তো বহু আগেই আমাদের মনে জায়গা করে নিয়েছে,ভাত ডাল ছেড়ে আমরা অনেকেই মোমো থুকপার প্রেমে হাবুডুবু, ঠিক তেমনি এই মঠের ভেতর প্রবেশ করলে মন এক অপার্থিব অনুভূতিতে সিক্ত হয়ে ওঠে।চারিদিকে নানান রঙের ছোঁয়া,যেমনটা আমরা বাকি সব বৌদ্ধ মঠে দেখতে পায়। মঠে প্রবেশের শুরুতেই রয়েছে প্রার্থনাচক্র, সুমধুর ঘন্টাধ্বনি মন শান্ত করে দেয়। সারা শহরের সব ব্যস্ততা যেন এখানে এসে থমকে গেছে।কলকাতায় এই মঠটি নির্মিত হয় ১৯৩৫-১৯৪৭ সালের দিকে। ধীরে ধীরে তা আদিরূপ বদলে নব রূপে সুসজ্জিত হয়েছে, তা প্রায় ১৯৭৬-৭৭ নাগাদ।

আরো পড়ুন:  কলকাতায় এখনও মাটিতে বসে কাঁসার থালায় খেতে চাইলে আসতেই হবে ১৫০ বছরের পুরোনো জগন্মাতা ভোজনালয়ে

মঠের কেন্দ্রীয় প্রার্থনাঘরটি দেখে আপনার চোখ জুড়িয়ে যাবে। ঢোকার মুখে রয়েছে সুন্দর কয়েকটি প্রার্থনাচক্র। যেগুলির ধ্বনি আপনার মন প্রশান্তিতে ভরিয়ে দেবে। অলংকৃত এবং বক্রাকার স্তম্ভগুলিও দেখার মতো। রয়েছে ধ্যানী বুদ্ধের বিগ্রহ। তবে মূল আকর্ষণ হল মঠ চত্বরের স্তূপটি। ৭,চক্রবেড়িয়া লেন,কলকাতা পদ্মপুকুর বাসস্ট্যান্ডের কাছেই এই মঠ | মঠ জনসাধারণের জন্যে খোলা থাকে সকাল ১০ টা থেকে বিকেল ৪ টে পর্যন্ত |
একবার ঘুরে আসাই যায় এই মঠে | কলকাতায় এক টুকরো তিব্বতের স্বাদ পেলে মন্দ কি !!!

আরো পড়ুন:  গত ৩০ বছর ধরে বিনা পয়সায় ছাত্র ছাত্রীদের পড়িয়ে চলেছেন প্রাক্তন নকশাল নেতা শ্রদ্ধেয় শিক্ষক সুভাষ কুন্ডু

– লিলি চক্রবর্তী

তথ্য : বঙ্গদর্শন

Avik mondal

Avik mondal

Related post

করোনাকে না করো

ভাইরাসের কবলে আজ সারা বিশ্ব,গৃহবন্দী বিশ্ববাসী।বন্ধ দ্বার খুলতে তাই নিজেদের সুরক্ষিত রাখুন,হাত ধুয়ে নেমে পড়ুন এই ভাইরাস দমনে।