নেতাজির ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন সু কি’র বাবা বার্মার স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা জেনারেল আং সান,ইতিহাস এভাবেই জুড়ে রেখেছে বাংলা আর বার্মাকে

নেতাজির ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন সু কি’র বাবা বার্মার স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা জেনারেল আং সান,ইতিহাস এভাবেই জুড়ে রেখেছে বাংলা আর বার্মাকে

আচ্ছা, বার্মা শহরের নাম শুনলে কী মনে হয় বলুন তো? আসলে বার্মা মানে মায়ানমার শুধুই তো একটা দেশ নয়। অনেক কিছু, বিশেষ করে বাংলার সঙ্গে এই বার্মার যোগাযোগ কিন্তু অনেক পুরনো। শরৎচন্দ্রের ‘পথের দাবি’- বাঙালির সঙ্গে এক অমোঘ বন্ধন বার্মার। তবে বার্মার সঙ্গে বাঙালির আসল যোগসূত্র কিন্তু নিঃসন্দেহে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। তাঁর আজাদ হিন্দ ফৌজের সঙ্গে বার্মার সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে বলবার কিছু নেই। তবে একটা বিষয় হয়তো অনেকেরই জানা নেই, নেতাজির সঙ্গে বিশেষ সখ্যতা ছিল বার্মার স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা পুরুষ জেনারেল আং সানের। তিনি হলেন আজকের মায়নমারের কাউন্সিলর আং সান সু কি-র বাবা। ভাবতে অবাক লাগলেও ইতিহাস এভাবেই জুড়ে রেখেছে বার্মা ও বাঙালির এক গর্ব – এক রত্নকে।

আরো পড়ুন:  মৃত্যুশয্যায় বাঘাযতীন বললেন,"এত রক্ত ছিল শরীরে?ভাগ্যক্রমে, প্রতিটি বিন্দু অর্পণ করে গেলাম দেশমাতার চরণে"

বিশিষ্ট নেতাজি গবেষক জয়ন্ত চৌধুরীর থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী জানা যায়, আং সানের সঙ্গে নেতাজির আলাপ তিনের দশকের শেষ দিকে। তারপর ক্রমশ গাঢ় হয় সম্পর্ক। যার প্রতিফলন পড়েছিল নেতাজির আজাদ হিন্দ ফৌজ ও আং সানের বার্মিজ ন্যাশনাল আর্মির সেনাদের মধ্যে তৈরি হওয়া সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কেও। দুই বন্ধুর জীবন কিন্তু আরও এক জায়গায় গিয়ে এক হয়ে যায়। একদিকে নেতাজি অন্তর্ধান রহস্য ঘিরে ওঠা বিতর্ক, যার আজও সমাধান হয়নি। অন্যদিকে ১৯৪৭ সালে আং সানের মৃত্যু।

আরো পড়ুন:  ফাঁসির মঞ্চে প্রাণ দেওয়া ৪১ জন বাঙালি বিপ্লবীর পরিচয় এবং ছবি

আং সানের কিন্তু স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি। বার্মা স্বাধীন হয়েছিল ১৯৪৮ সালে। তার আগের বছরই খুন হন আং সান। দেশের স্বাধীনতার সূর্য আর দেখা হয়নি তাঁর। আসলে বার্মার বা মায়ানমারের ইতিহাসের সঙ্গে তাদের সেনার আগ্রাসী মনোভাবের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক। ওখানে নামমাত্র গণতন্ত্র ! ১৯৬২ সালে জেনারেল নে উইনের নেতৃত্বে দেশে সেনা শাসন জারি হয়। পরবর্তী সময় জুড়ে বারবার গণতন্ত্র ফেরানোর আওয়াজ উঠেছে বার্মায়। আর প্রতিবারই সেনা সেই আওয়াজ রুদ্ধ করেছে। সম্প্রতি নেতাজির বন্ধু আং সানের মেয়ে তথা মায়ানমারের কাউন্সিলর আং সান সু কি-সহ শাসকদলের বেশ কয়েকজন নেতাকে আটক করে সেদেশের সেনাবাহিনী। ২০১৫ সালে তিনি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ মসনদে বসেন।

আরো পড়ুন:  "পুনর্জন্মে বিশ্বাস করি,পরের জন্মে দেশ স্বাধীন করবই"-ফাঁসির আগে বলেছিলেন রাজেন্দ্রনাথ লাহিড়ী

মায়ানমারের মাটিতে কিন্তু আজও সুভাষচন্দ্রের আজাদ হিন্দ ফৌজের সেই আশ্চর্য সংগ্রামের স্মৃতিচিহ্নগুলি আছে। কিন্তু সেখানে গেলে এগুলো সহজে দেখতে পাবেন না। সেনার ভয়ে সেভাবে হয় না। ইতিহাস হয়তো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তবে মানুষের মন থেকে ইতিহাসের সৌধ কে মুছবে ! সে তো অবিনশ্বর।

তথ্য : প্রতিদিন

Piyali Banerjee

Piyali Banerjee

Related post

করোনাকে না করো

ভাইরাসের কবলে আজ সারা বিশ্ব,গৃহবন্দী বিশ্ববাসী।বন্ধ দ্বার খুলতে তাই নিজেদের সুরক্ষিত রাখুন,হাত ধুয়ে নেমে পড়ুন এই ভাইরাস দমনে।