প্রয়াত হলেন জীববিদ্যার কিংবদন্তি শিক্ষক দুলাল চন্দ্র সাঁতরা,রয়ে গেল ছাত্রছাত্রীদের জন্যে তাঁর অসামান্য সৃষ্টি

প্রয়াত হলেন জীববিদ্যার কিংবদন্তি শিক্ষক দুলাল চন্দ্র সাঁতরা,রয়ে গেল ছাত্রছাত্রীদের জন্যে তাঁর অসামান্য সৃষ্টি

প্রয়াত হলেন জীববিদ্যার কিংবদন্তি শিক্ষক দুলাল চন্দ্র সাঁতরা | দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন তিনি | নব্বইয়ের দশক থেকে শুরু করে এখনও পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে বাংলা মাধ্যমে যে সব ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করছেন তাদের কাছে জীববিদ্যার বই বলতে একটিই নাম প্রথমে মাথায় আসে, সেটি হল দুলাল চন্দ্র সাঁতরার বই |

১৯৪৭ সালের ২০ ডিসেম্বর বীরসিংহ গ্রামে জন্ম দুলালচন্দ্র সাঁতরার | এই গ্রামেই জন্মেছিলেন পন্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর | উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত মেদিনীপুরের স্কুলেই পড়াশোনা করেছিলেন | এরপর তিনি ভর্তি হন কলকাতার সিটি কলেজে | কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গন্ডি পেরিয়ে তিনি শুরু করেন শিক্ষকতার জীবন | প্রথম চার বছরে রানি ভবানী হাই স্কুল, নবপল্লী বয়েজ (বারাসত), তালতলা হাই স্কুল, সিঁথি রামকৃষ্ণ মিশনে পড়িয়েছেন | কিন্তু এরপর যোগদান করেন মধ্যমগ্রাম বয়েস হাইস্কুলে | সেখানে দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করেছেন | ২০০৫ সালে অবসর নেন তিনি | তখন মধ্যমগ্রাম হাইস্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক ছিলেন মুরারিমোহন চট্টোপাধ্যায় | মুরারিবাবুর সঙ্গে দারুণ সখ্যতা ছিল সাঁতরাবাবুর |

আরো পড়ুন:  বাঙালির শৈশব থেকে হারিয়ে যাচ্ছে হাঁদা ভোঁদা, নন্টে ফন্টে, বাটুল দি গ্রেট

দুলালচন্দ্র সাঁতরার পড়ানোর ধরণ ছিল একদম আলাদা | গম্ভীর ভাবে নয়,পড়াতেন মজার ছলে | মধ্যমগ্রাম হাইস্কুলের প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদের থেকে আজও তাঁর সম্পর্কে শোনা যায় অনেক কাহিনী | অন্য স্কুলের ছাত্ররা সাঁতরাবাবুর ক্লাস করার জন্যে মধ্যমগ্রাম হাইস্কুলের ইউনিফর্ম ধার করতে চাইত | দীর্ঘ ৩৩ বছরের স্কুলে শিক্ষকতা করেন দুলালচন্দ্র সাঁতরা | স্কুলের পাশাপাশি বারাসত এবং মধ্যমগ্রামে কোচিং ক্লাসে পড়াতেন দুলালচন্দ্র সাঁতরা | বহু ছাত্রছাত্রী পড়তেন সেখানে | অনেকসময় হয়ত কোচিং ক্লাসে সকলের বসার জায়গা হত না |

আরো পড়ুন:  মহিষাদল রাজবাড়ির দুর্গাপুজোর সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রায় আড়াইশো বছরের ইতিহাস

জীববিজ্ঞানের বহু বই লিখেছেন দুলালচন্দ্র সাঁতরা | আছে নিজস্ব প্রকাশনা সংস্থা সাঁতরা পাবলিকেশন | পুষ্টিবিদ্যা, পরিবেশ বিজ্ঞান নিয়েও বই লিখেছেন তিনি | ক্লাস সেভেন থেকে মাধ্যমিক, উচ্চ-মাধ্যমিক, এমনকি স্নাতক স্তরেও তাঁর বই পড়ছেন ছাত্রছাত্রীরা | এছাড়া মেডিকেল জয়েন্ট এন্ট্রান্সের বইও লিখছেন তিনি | তাঁর প্রয়াণে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে শিক্ষকমহলে এবং ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে |

আরো পড়ুন:  একসময় দুই বাংলার মধ্যে চলত বিজয়া দশমীর কুশল বিনিময়,নিরাপত্তার কড়াকড়িতে হারিয়েছে ইছামতিতে বিসর্জনের ঐতিহ্য

তথ্য : কৃশানু ঘোষ (নিউজপোল)

Avik mondal

Avik mondal

Related post

করোনাকে না করো

ভাইরাসের কবলে আজ সারা বিশ্ব,গৃহবন্দী বিশ্ববাসী।বন্ধ দ্বার খুলতে তাই নিজেদের সুরক্ষিত রাখুন,হাত ধুয়ে নেমে পড়ুন এই ভাইরাস দমনে।