চার বছর ধরে তিল তিল করে জমানো ১৪ হাজার টাকা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে দান করলেন বৃদ্ধ ভিক্ষাজীবী

চার বছর ধরে তিল তিল করে জমানো ১৪ হাজার টাকা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে দান করলেন বৃদ্ধ ভিক্ষাজীবী

সমাজে এমন মানুষ থাকেন,আপাতদৃষ্টিতে যারা হয়ত অনেকের চোখে নিতান্ত সাধারণ ! কিন্ত তারাই আলো ছড়ান সমাজের চারপাশে৷সমাজের জন্য তাঁর কাজ হয়ে উঠে অনেকের অনুপ্রেরণা৷আর আমাদের তথাকথিত সমাজের চোখে যে তিনি ভিক্ষুক ! তাঁর জীবনের কি এমন গল্প থাকতে পারে ! তিনি পঁচাত্তর বছরের প্রবীণ শেখ নাসের৷ কলকাতার চাঁদনি চক এলাকায় ভিক্ষা করেন ৷ সেখানে যারা ব্যবসার কাজে যান অথবা অন্য পথচারীরা তাঁর ভিক্ষার বাটিতে যে যেমন পারেন অর্থাৎ এক টাকা,দু’টাকা, পাঁচ টাকা দেন৷ঠিক এভাবেই চার বছর ধরে তিল-তিল করে জমিয়েছিলেন ১৪ হাজার টাকা ৷ সেই টাকা তিনি দান করে দিলেন একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে বেওয়ারিশ দেহের শেষকৃত্যের কাজে ৷

আরো পড়ুন:  ডালহৌসিতে টেগার্টকে লক্ষ্য করে বোমা ছোড়েন দীনেশ মজুমদার এবং অনুজাচরণ সেনগুপ্ত,এক চুলের জন্যে বেঁচে যান টেগার্ট

শেখ নাসের পরিচয়ে ভিক্ষুক ! কিন্তু মনটা যে অনেক বড়৷সবসময় ভাবতেন ভিক্ষার জমানো টাকা দিয়ে সমাজের জন্য কিছু করবেন৷কোনও সমাজসেবামূলক কাজে দান করবেন ভিক্ষার সঞ্চিত অর্থ৷কিন্তু ভাবলেই যে হবে না ! ভিক্ষুক দান করবেন শুনলে অনেকে হয়ত তাঁর কথা পাত্তা দেবেন না ! এমন ভীতি মনের মধ্যে যে ছিল না এমনটা নয় ! তবে সেই ভীতি কাটিয়ে উঠে শেখ নাসের হয়ে উঠেছেন সকলের দৃষ্টান্ত |

জীবনের প্রথম দিকে আসবাবপত্র তৈরির একটি কারখানায় কর্মী ছিলেন শেখ নাসের ৷মারাত্মক দুর্ঘটনায় আট বছর আগে ডান পায়ে বড় ধরনের চোট পেয়েছিলেন৷শারীরিক ভাবে কাজ করার সক্ষমতা হারিয়েছিলেন৷দুর্ঘটনার পরে আশ্রয় পান তিলজলার একটি হোমে৷সেখানে ছিলেন চার বছর৷মাঝে জীবনে বয়ে গিয়েছে অনেক ঝড়৷স্ত্রী,দুই ছেলে তাকে ছেড়ে চলে গিয়েছেন৷হোমে চার বছর থাকার পরে চাঁদনি চক এলাকায় ভিক্ষাবৃত্তিই বেছে নিতে বাধ্য হয়েছিলেন কারণ জখম পায়ে না পারেন ভালো করে হাঁটতে না পারেন কাজ করতে৷বড় মনের মানুষ বলেই বোধহয় তাঁর সারাদিনের খাবারের ব্যবস্থা করে দেয় রাস্তার একটা হোটেল৷জামাকাপড় দেন কেউ না কেউ৷তখন থেকেই মানসিক ভাবে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন ভিক্ষাবৃত্তির সঞ্চিত অর্থ তিনি দান করবেন মানুষের কল্যাণে৷ ভিক্ষুক টাকা দান করবে,এই কথাটা অনেকের কাছে বিশ্বাসযোগ্য না হলেও যেখানে নাসের ভিক্ষা করেন সেখানকার এক জামাকাপড়ের ব্যবসায়ী রহমান সরকারের পছন্দের মানুষ ছিলেন তিনি৷রহমানকে নিজের ইচ্ছের কথা জানিয়েছিলেন নাসের।সব শুনে রহমান সরকার একটুও যে অবাক হননি এমন নয়,তবে নাসের ছিলেন বদ্ধপরিকর | বেনিয়াপুকুর থানা এলাকার স্বেচ্ছাসেবী সংস্থায় তিনি টাকা দিতে চাইছিলেন৷সেই থানার এক আধিকারিক নাসেরের ভিক্ষাবৃত্তির তিল তিল করে জমানো ১৪ হাজার টাকা পৌঁছে দিয়েছেন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কাছে৷সেই মহৎ কাজে নাসের কে সাহায্য করেছেন রহমান সরকার৷তবে এখানেই থামতে চান না নাসের,ভিক্ষাবৃত্তির অর্থ আবার জমিয়ে তিনি চান সেই অর্থ সমাজসেবামূলক কাজেই ব্যয় করবেন৷এমন মানুষের বোধহয় প্রাপ্য অনকে অনেক কুর্ণিশ |

আরো পড়ুন:  চায়ে চুমুক দিয়ে মুগ্ধ নেতাজি বললেন,তোকে আশীর্বাদ দিলাম ভুলু একদিন তোর বোস কেবিনের সুনাম ছড়াবে

– অরুনাভ সেন

Avik mondal

Avik mondal

করোনাকে না করো

ভাইরাসের কবলে আজ সারা বিশ্ব,গৃহবন্দী বিশ্ববাসী।বন্ধ দ্বার খুলতে তাই নিজেদের সুরক্ষিত রাখুন,হাত ধুয়ে নেমে পড়ুন এই ভাইরাস দমনে।