পর্তুগিজদের হাত ধরেই ‘ব্যান্ডেল চিজ’ ঢুকল মিষ্টিপ্রেমী বাঙালির হেঁশেলে

পর্তুগিজদের হাত ধরেই ‘ব্যান্ডেল চিজ’ ঢুকল মিষ্টিপ্রেমী বাঙালির হেঁশেলে

চিজ খেতে আমরা ছোট্ট, বড় সব্বাই খুব ভালবাসি। চিজ পাস্তা, চিজ পিৎজা, চিজ স্যান্ডিউইচ সবই দারুন। তবে কোনওদিন ব্যান্ডেল চিজ খেয়েছেন? এই ঐতিহাসিক সুস্বাদু খাবারটি খেতে হলে আপনাদের যেতে হবে পর্তুগিজদের দেশে। না না, পর্তুগাল নয়। কলকাতা থেকে একটু দূরে হুগলির ব্যান্ডেলে গেলেই হবে।

হুগলিতে গঙ্গার ধারের ব্যান্ডেল শহর আর সেই সুদূর পর্তুগালের মধ্যে কী মিল আছে বলুন তো? ভাস্কো দা গামা ভারতের পশ্চিম উপকূলে পা রাখার প্রায় একশো বছর পর বাংলায় পর্তুগিজদের আনাগোনা শুরু হয়। গঙ্গার তীরে কুঠি নির্মাণ করেন তাঁরা। শক্ত ঘাঁটি গড়ে ওঠে হুগলিতে। ১৫৯৯ সাল নাগাদ ব্যান্ডেলে পর্তুগিজরা তৈরি করেন বাংলার প্রাচীনতম গির্জাগুলির একটি, যা ব্যান্ডেল চার্চ নামে পরিচিত। সেই সঙ্গে এই শহরেই ‘ব্যান্ডেল চিজ’ নামের এক সুস্বাদু খাবারের আবিষ্কার হয়।

আরো পড়ুন:  ভারতবর্ষে প্রথম বাণিজ্যিক ভিত্তিতে 'সিরাম' উৎপাদন শুরু হয় তার হাত ধরেই

ইউরোপিয়ানদের মধ্যে পর্তুগিজরা আগের দিকেই বাংলায় এসেছিলেন। কিন্তু এখানে শক্তপোক্ত আধিপত্য ধরে রাখতে পারেননি। তবে বাংলার খাবারে পর্তুগিজদের প্রভাব যথেষ্ট পড়েছিল। ব্যান্ডেল চিজই হল তার প্রমাণ। আসলে প্রাচীন ভারতে দুধ কেটে ছানা বের করাকে অপবিত্র মনে করা হত। তাই ছানা তখন খেতেন না কেউ। কিন্তু এরপর পর্তুগিজদের হাত ধরেই বাংলায় ছানার ব্যবহার শুরু হয়েছিল।পর্তুগিজ বণিকরা রান্নার কাজে নিয়োগ করেন স্থানীয় লোকেদের। তাঁরা দেশীয় আর পশ্চিমি পদ্ধতি মিশিয়ে নানা রকম খাবার রাঁধতেন। ছানা বানানোর উপায় আবিষ্কার করেন এভাবেই। আরও অনেক পরীক্ষানিরীক্ষার পর ব্যান্ডেল চিজ তৈরি হয়। পর্তুগিজদের অধীনে কাজ করা মগ অথবা বর্মি পাচকরাই সম্ভবত এই ব্যান্ডেল চিজের জনক।

আরো পড়ুন:  পর্তুগিজ কবিয়াল অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি-ও মেতেছিলেন মা কালীর আরাধনায়,তাঁর নামেই মন্দিরের নাম ফিরিঙ্গি কালীবাড়ি

এই ব্যান্ডেল চিজ সাধারনত দুইরকমের হয় – সাধারণ (সাদা) আর স্মোকড (বাদামি)। ছোটো ছোটো গোলাকার দেখতে হয় আর এতে নুন দেওয়া থাকে অনেকটা। লেবুর রস দিয়ে দুধ থেকে ছানা আলাদা করে এগুলো বানানো হয়। ছাঁচে ফেলে তারপর ভরা হয় ছোটো ঝুড়িতে। ধোঁয়া খাওয়ানো হয়। ব্যান্ডেল চিজ সুগন্ধে ভরপুর। শুকনো ঝুরঝুরে আর ধোঁয়াটে স্বাদের জন্য বিখ্যাত। বানানোর পর সরাসরি বিক্রি করা হয় বলে তাজা থাকে। স্যালাড, পাস্তা কিংবা রিসাটোর সঙ্গে খেতে দারুণ লাগে।

আরো পড়ুন:  হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হলেন রাজনীতির জগতের ছোড়দা সোমেন মিত্র

হুগলি জেলার তারকেশ্বর এবং বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুরেও ভালো মানের ব্যান্ডেল চিজ পাওয়া যায়। এছাড়া কলকাতার বেশ কিছু মলেও এটি মিলবে। নিউমার্কেটের জে জনসন এবং মল্লিক অ্যান্ড সন্স….. এই দুটি দোকানেই বেশ কিছু প্রজন্ম ধরে ব্যান্ডেল চিজ বানানো হয়। না খেয়ে থাকলে একবার কিন্তু খেয়ে দেখতেই পর্তুগিজদের এই ঐতিহাসিক খাবার।

Piyali Banerjee

Piyali Banerjee

করোনাকে না করো

ভাইরাসের কবলে আজ সারা বিশ্ব,গৃহবন্দী বিশ্ববাসী।বন্ধ দ্বার খুলতে তাই নিজেদের সুরক্ষিত রাখুন,হাত ধুয়ে নেমে পড়ুন এই ভাইরাস দমনে।