ব্র্রিটিশদের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিল নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু-র আজ়াদ হিন্দ রেডিও

ব্র্রিটিশদের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিল নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু-র আজ়াদ হিন্দ রেডিও

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলছে | গোটা পৃথিবী জুড়ে অস্থির পরিস্থিতি | নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর অন্তর্ধান ঘিরে গোটা দেশ উত্তাল | চিন্তায় ঘুম উড়ে গেল ব্রিটিশদের | বিভিন্ন দেশে চলল তল্লাশি | না কোথাও খোঁজ পাওয়া গেল না | কোথায় গেলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ?

১৯৪২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি | ইথার তরঙ্গতে ভেসে এল একটা গুরুগম্ভীর কণ্ঠস্বর – “দিস ইজ় সুভাষ চন্দ্র বোস স্পিকিং টু ইউ ওভার আজ়াদ হিন্দ রেডিও”। এই একটা লাইনই দেশবাসীকে স্বাধীনতা সংগ্রামে অনুপ্রাণিত করার জন্য যথেষ্ট ছিল | কেঁপে গিয়েছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ |

কিভাবে জন্ম নিল আজ়াদ হিন্দ রেডিও ?
শুধুমাত্র অস্ত্র দিয়েই তো আর যুদ্ধ জেতা যায় না। তার জন্য দরকার পর্যাপ্ত রণকৌশল | আর এই রণকৌশলের অঙ্গ হিসেবেই ব্রিটিশরা হাতিয়ার করে ইথার তরঙ্গকে | উদ্দেশ্য ভারতবাসীকে নিজেদের গুণগান প্রচার করা এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে ভারতবাসীদের নিজেদের দলে ফেরানোর চেষ্টা | কিন্তু ব্রিটিশদের সেই উদ্দেশ্য সফল হয়নি | নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু দেশবাসীকে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে অনুপ্রাণিত করতে হাতিয়ার করলেন এই রেডিওকেই | ১৯৪২ সালের ৭ জানুয়ারি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর নেতৃত্বে প্রথম যাত্রা শুরু করেছিল আজ়াদ হিন্দ রেডিও | প্রথমদিকে এর সম্প্রচার জার্মানিতে শুরু হলেও, নেতাজির দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় গমনের সাথে সাথে এর সদর দপ্তর প্রথমে সিঙ্গাপুর ও পরে রেঙ্গুন স্থানান্তরিত হয়।

প্রত্যেক সপ্তাহে একবার করে মোট আটটি ভাষায় আজ়াদ হিন্দ রেডিও থেকে নিউজ় বুলেটিন পড়া হত । ভাষাগুলো হল ইংরেজি, হিন্দি, বাংলা, তামিল, মরাঠি, পঞ্জাবি, পুশতু এবং উর্দু । নেতাজির ভাষণ রেডিওর মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ল ভারতবাসীর মধ্যে | ক্রমে রেডিও জনপ্রিয়তা দেশবাসীর মধ্যে বাড়তে শুরু করেছিল। আর সেকারণেই ইংরেজ সেনাবাহিনী এই রেডিও নিয়ে অপপ্রচারও চালাতে শুরু করেছিল। সেকারণে তারা অল ইন্ডিয়া রেডিওর নাম বদলে Anti India Radio রেখেছিল | কিন্তু আটকানো যায়নি নেতাজিকে | তাঁর আবেগপূর্ণ ভাষণ পৌঁছে গিয়েছিল দেশবাসীর হৃদয়ে |

আরো পড়ুন:  "নেতাজি শিখিয়েছিলেন সারা জীবন মানুষের জন্য কাজ করবে"-ক্যাপ্টেন লক্ষ্মী সেহগল

রইল নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু্র আজ়াদ হিন্দ রেডিওতে দেওয়া একটি ভাষণ :

India’s hour of Destiny, 28 Feb. 1942
Sisters and brothers. For about a year I have waited in silence and in patience for the march of events and now that the hour has struck I Come forward to speak. The fall of Singapore means the collapse of the British Empire, the end of the iniquitous regime which it has symbolized, and the dawn of a new era in Indian history. The Indian people, who have long suffered from the humiliation of foreign yoke and have been ruined spiritually, culturally, politically and economically while under British domination, now must offer their humble thanks to the Almighty for the auspicious even which bears for India the promise of life and freedom. British imperialism has, in modern history, been the most diabolical enemy of freedom and the most formidable obstacle to progress. Because of it, a very large section of mankind has been kept enslaved and in India alone about one fifth of the human race has been ruthlessly suppressed and persecuted. For other nations British Imperialism may be the enemy of today, but for India it is the eternal foe. Between these two there can be neither peace nor compromise and the enemies of British imperialism are today our natural friends.
The outside world hears, from time to time, voices from India claiming to speak either in the name of the All India National Congress or of the Indian people, but these voices come through channels of British propaganda and nobody should make the fatal mistake of regarding them as representative of free India. As is natural for a land that has been under foreign domination, the British officers have en devoured to create divisions among the Indian people. As a consequence, we find in India some who openly support British Imperialism ans who, whether intentionally or unintentionally, help the British cause, often camouflaging their real motives by talking of cooperation with Chung king China, Russia and other allies of England. There is, however, a vast majority of Indian people who will have no compromise with British imperialism but will fight on till full independence is achieved. Owing to wartime conditions in India, the voice of these freedom-loving Indians cannot cross the frontiers of the country, but we, who have fought for more than two decades for our national emancipation, know exactly what out countrymen think and feel today.
Standing at one of the cross-roads of world history, I solemnly declare on behalf of all freedom loving Indians in India and abroad, that we shall continue to fight British imperialism till India is once again the mistress of her own destiny. During this struggle, and in the reconstruction that will follow, we shall heartily cooperate with all those who help us to overthrow the common enemy. I am confident that, in this sacred struggle, the vast majority of Indian people will be with us. No man-oeuvre, intrigue or conspiracy on the part of agents of Anglo-American imperialism, however prominent they may be and to whichever nationality they may belong, can throw dust in the eyes of the Indian people, or divert them from the path of patriotic duty. The hour of India’s salvation is at hand. India will now rise and break the chains of servitude that have bound her so long. Through India’s liberation Asia and the world will move forward towards the larger goal of human emancipation.

আরো পড়ুন:  প্রেম নিবেদনের পর ফাঁসি হল "ফুটুদার",দীর্ঘ দশ বছর ফিরে আসার অপেক্ষায় ছিলেন কল্পনা দত্ত
Avik mondal

Avik mondal

Related post

করোনাকে না করো

ভাইরাসের কবলে আজ সারা বিশ্ব,গৃহবন্দী বিশ্ববাসী।বন্ধ দ্বার খুলতে তাই নিজেদের সুরক্ষিত রাখুন,হাত ধুয়ে নেমে পড়ুন এই ভাইরাস দমনে।