গ্রাম বাংলার মানুষের প্রিয় লোক উৎসব – অশ্বিনী কুমার ব্রত

গ্রাম বাংলার মানুষের প্রিয় লোক উৎসব – অশ্বিনী কুমার ব্রত

” আশ্বিনে রাঁধে, কার্তিকে খায়
যে বর মাগে সেই বর পায় “।

আজ অশ্বিনী কুমার ব্রত। আচ্ছা কে এই অশ্বিনীকুমার ? তার পরিচয় বা কি ? আচ্ছা তাকে কেনই বা এই নামে ডাকা হয় ?

এটি একটি লোক উৎসব। আর গ্রাম বাংলার মানুষের কাছে খুবই জনপ্রিয়।অশ্বিনী কুমার ব্রত উৎসবে আশ্বিন মাসের শেষ দিন অন্ন রান্না করে তার পরের দিন অর্থাৎ কার্তিক মাসের প্রথম দিন সেই অন্ন খাওয়া হয়। ঋগ্বেদে অশ্বিনীকুমার দ্বয় এই যমজ দেবতাদের চিকিৎসক হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। অশ্বিনী – অশ্ব রূপিনী সূর্য পত্নী সংজ্ঞা এবং তাঁর কুমার – পুত্র এই অর্থে অশ্বিনীকুমার। বিশ্বকর্মার মেয়ে সংজ্ঞা স্বামীর তেজ সহ্য করতে না পেরে উত্তরকুরুবর্ষে ঘোটকী বেশে তপস্যা করতে থাকেন। সংজ্ঞা কোথায় আছেন সূর্য জানতে পেরে ঘোটকী বেশে সেখানে যান। এরপর অশ্বিনীর গর্ভে সূর্যের আশ্বিন ও রেবান্ত দুটি যমজ ছেলে হয়। এঁরাই স্বগবৈদ্য অশ্বিনীকুমার। আবার কারও মতে, অশ্বিনীকুমার ও রেবান্ত তিনটি ছেলে ছিল। পরম সুন্দর আশ্বিন ও রেবান্ত একরকম দেখতে, এক সঙ্গে থাকতেন এবং চিকিৎসা বিদ্যায় অদ্বিতীয় ছিলেন। অশ্বিনী মূলত সূর্যের স্ত্রী সংজ্ঞা, দক্ষ প্রজাতির মেয়ে ও চন্দ্রের স্ত্রী। ঘোড়ার মতো দেখতে বলে এই নাম। চন্দ্রের ২৭ টি স্ত্রী র মধ্যে তিনি প্রথম। জানা যায়, সংজ্ঞা অভিশাপ গ্ৰস্ত থেকে মুক্ত হবার জন্য জগজ্জননী পার্বতীর কাছে নিজের দুর্দশার কথা বললে পার্বতী এক মুষ্টি চাল দিয়ে তাকে বলেছিলেন আশ্বিন মাসের শেষ দিন রান্না করে কার্তিক মাসের প্রথম দিন সেই অন্ন খেতে হবে, তবেই মনস্কামনা পূর্ণ হবে। সেই নিয়ম মেনে দেবী সংজ্ঞা রোগ ও অভিশাপ মুক্ত হয়েছিলেন। এই ব্রতের কথা অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘ ব্রতের কথা ‘ গ্ৰন্থে উল্লেখ করেছেন।

আরো পড়ুন:  "যামিনী বুড়ো"র আবিষ্কারে আজও মজে আছে বাঙালি

-রিয়া দাস (রাই)

Avik mondal

Avik mondal

Related post

Leave a Reply

করোনাকে না করো

ভাইরাসের কবলে আজ সারা বিশ্ব,গৃহবন্দী বিশ্ববাসী।বন্ধ দ্বার খুলতে তাই নিজেদের সুরক্ষিত রাখুন,হাত ধুয়ে নেমে পড়ুন এই ভাইরাস দমনে।