নেতাজীর চিঠি ও স্মৃতিবিজড়িত চেয়ার আজও সযত্নে রক্ষিত আছে আসানসোলের রায় পরিবারে

নেতাজীর চিঠি ও স্মৃতিবিজড়িত চেয়ার আজও সযত্নে রক্ষিত আছে আসানসোলের রায় পরিবারে

আসানসোল | অনেকেই জানেন না এই আসানসোল শহরের সাথেও রয়েছে নেতাজীর সম্পর্ক | এমনকি আসানসোলে এসেও ছিলেন নেতাজী |

আসানসোলের কুলটির বেলরুই গ্রামের রায় পরিবার। রায় বাড়ির মাথা তখন নকুলচন্দ্র রায়। ইনি আবার ব্রিটিশ সরকারের সান্মানিক ম্যাজিস্ট্রেটও ছিলেন। ১৯৪০‌ সালের ১৬ই জুন | তাঁর বাড়িতে একটি চিঠি আসে। ৪/৬ ইঞ্চি আকারের একটি কাগজ, ইংরেজিতে টাইপ করা সব অক্ষর,উপরে ডানদিকে ঠিকানা লেখা, ৩৮/২ এলগিন রোড ক্যালকাটা। চিঠির নীচে রয়েছে একটি হস্তাক্ষরও। ঠিকানা দেখেই আন্দাজ করা যায় যে সে হস্তাক্ষর কার হতে পারে। হ্যাঁ, মি:রায় ওরফে নকুলচন্দ্র রায়কে চিঠিটি লিখেছিলেন স্বয়ং নেতাজী।

আরো পড়ুন:  ক্ষুদিরাম হেমবাবুকে বলল,স্যার আমি যে মায়ের কথা বলছি সে আমার,আপনার,সারা দেশবাসীর মা

চিঠিটির বক্তব্য ছিল- “সোনার বাংলা কটন মিল লিমিটেড”এর বোর্ড অফ ডিরেক্টরের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন নেতাজী। মিলে তৈরী পণ্যও বাজারে আসার অপেক্ষায়, এই অবস্থায় তিনি মি:রায়’কে চিঠি পাঠান সেই মিলেরই বোর্ড অফ ডিরেক্টরের একজন সদস্য হওয়ার অনুরোধে। পরিবারের সূত্রে জানা যায় নেতাজীর সে অনুরোধ মি: রায় রেখেছিলেন।এই চিঠি রায়বাড়ি পৌঁছনোর কিছুক্ষণের মধ্যেই নেতাজীও আসেন রায় বাড়িতে।নকুলচন্দ্রের সঙ্গে ব্যাবসা সংক্রান্ত কিছু আলাপ আলোচনা হয় তারপর তিনি চলে যান।

এখন নকুলচন্দ্র রায় প্রয়াত হয়েছেন।বিশাল রায়বাড়ি সংস্কারের সময় প্রায় ছয় বছর আগে হঠাৎ করেই চিঠিটি পান নকুলবাবুর ভাইপো বাদল বাবু। ১৯৪০ সালে যখন নেতাজী আসেন তখন বাদল বাবুর বয়স ছিল মাত্র দশ।এই ঘটনার শেষ সাক্ষী ছিলেন তিনিই। মারা যাওয়ার আগে নেতাজীর লেখা চিঠিটি দিয়ে পরবর্তী প্রজন্মকে সেই ঘটনার বিবরণ দিয়ে যান তিনি। এই ঘটনার সূত্র ধরেই বাদলবাবুর ছেলে অসিতবাবু দাবি করেন ২০শে জুন নেতাজী এসেছিলেন তাদের বাড়িতে।

আরো পড়ুন:  রোনাল্ড রসের আবিষ্কারের সমান ভাগীদার ছিলেন তিনি,তবুও নোবেল পেলেন না ‘নেটিভ’ কিশোরীমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়

তিনি বাবার কাছে শুনেছেন অস্টিন গাড়ি চড়ে এসেছিলেন নেতাজী, শুধু তাই নয় তাদের বসার ঘরে একটি কাঠের চেয়ারেও বসেছিলেন তিনি।সেই থেকে গদি দেওয়া এই কাঠের চেয়ারটি সংরক্ষণ করে চলেছেন নকুল বাবুর নাতি ও তাদের পরিবার। নেতাজীর জন্মদিনের দিন চেয়ারটি বের করে আনা হয় নিজ স্থান থেকে পাড়া প্রতিবেশীদের দর্শনার্থে।কাঠের চেয়ারের হাতলে হাত বুলিয়ে অনেকে নেতাজীকে অনুভব করার চেষ্টা করেন ও চিঠিটিকে ভক্তিভরে প্রণাম করেন।

আরো পড়ুন:  লড়াই শেষ,প্রয়াত হলেন বর্ষীয়ান সিপিএম নেতা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী শ্যামল চক্রবর্তী

এই চিঠি নিয়ে অযথা বেশি সোরগোল করতে চাননি রায় বাড়ির লোকজন কারণ এটি তাদের পারিবারিক ব্যাপার। তাই এসব কখনই সংবাদমাধ্যমের সামনে আনেননি।কেউই সরাসরি এ ছবি হাতে পায়নি। ভিডিও ক্লিপ ও ছবি দেখে অনেক নেতাজী গবেষকের ধারণা এ হস্তাক্ষর নেতাজী’রই। নেতাজী’র ব্যবহৃত এই চেয়ার ও চিঠি এই পরিবারের কাছে মহামূল্যবান সম্পদ।

Avik mondal

Avik mondal

করোনাকে না করো

ভাইরাসের কবলে আজ সারা বিশ্ব,গৃহবন্দী বিশ্ববাসী।বন্ধ দ্বার খুলতে তাই নিজেদের সুরক্ষিত রাখুন,হাত ধুয়ে নেমে পড়ুন এই ভাইরাস দমনে।