প্রায় একশো বছর আগে ভবেশ চক্রবর্তীর হাত ধরে শুরু হয়েছিল নৈহাটির বড়মার পুজো

প্রায় একশো বছর আগে ভবেশ চক্রবর্তীর হাত ধরে শুরু হয়েছিল নৈহাটির বড়মার পুজো

যে পুজোর মূলমন্ত্র, ‘‌ধর্ম হোক যার যার, বড়মা সবার’‌।
জনশ্রুতি আজ থেকে বহু বছর আগে, ভবেশ চক্রবর্তী নামে এক ব্যক্তি তাঁর কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে নবদ্বীপে রাস দেখতে যান। সেখানে রাধাকৃষ্ণের বিশাল যুগল প্রতিমা দেখে মনস্থির করেন, তাঁরাও এমনই উঁচু মাতৃপ্রতিমা বানিয়ে কালী পুজো শুরু করবেন। নৈহাটি ফিরে এসে ২১ ফুট লম্বা কালী প্রতিমা তৈরি করে প্রথমবার পুজো শুরু করেন তাঁরা। বৈষ্ণবমতে, দক্ষিণাকালীরূপে পূজিতা হন দেবী, তাই কোনরকম বলিদানের প্রচলন নেই পুজোয়। প্রতিষ্ঠাতার নামেই সেসময় এই পুজোর নাম ছিল ‘‌ভবেশ কালী’৷ উচ্চতার কারণে পরবর্তীকালে তা পরিচিতি পায় ‘‌বড়মা’‌ নামে।

আরো পড়ুন:  নৈহাটির মাছ বাজারের দুর্গাপুজোর সাথে জড়িয়ে রয়েছে ইতিহাস

পুরনো ঐতিহ্যকে বজায় রেখে আজও পুজোর ভোগ আসে চক্রবর্তী বাড়ি থেকে। কোজাগরী লক্ষ্মী পুজোর দিন হয় কাঠামো পুজো। তার পনের দিনের মধ্যে একুশ ফুট কালী প্রতিমা তৈরি হয়। ভক্তদের দান করা অলঙ্কারে সাজানো হয় দেবী মূ্র্তি। দেবীর মুকুট, চাঁদমালা, মল রুপোর আর ত্রিনয়ন, জিহ্বা, ভুরু, নাক, গালের চন্দনচর্চা সোনার। এছাড়া টিকলি থেকে শুরু করে সারা গায়ে থাকে রকমারি সোনার গয়না। পুজো কমিটির কথা অনুযায়ী এইমুহূর্তে মায়ের অঙ্গে ১০০ ভরি সোনার আর ২০০ কেজি রুপোর গয়না আছে,যার বাজার মূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা !

আরো পড়ুন:  কিছুক্ষণ আগেই 'রবিকা' পাড়ি দিয়েছেন অমৃতলোকে,শোকস্তব্ধ অবন ঠাকুর বারান্দায় বসে এঁকেই চলেছেন অন্তিমযাত্রার ছবি

লক্ষ লক্ষ মানুষ মায়ের কাছে মানসিক করেন, মনস্কামনা পূর্ণ হলে, তাঁরাই মাকে অলঙ্কার দান করেন। পুজোর জন্য কোন চাঁদা আদায় করা হয়না , শুধুমাত্র ভক্তদের দানেই গোটা অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। কালীপুজোর দিন প্রায় ২০০০ কেজির খিচুড়ি এবং পোলাও ভোগ রান্না হয়। এবারে ৯২ বছরে পা দিলো এই ঐতিহ্যবাহী পুজো।

আরো পড়ুন:  বিদ্যাসাগরকে জোর করে চ্যাংদোলা করে ক্লাসে বসিয়ে রচনা লিখতে বাধ্য করেছিলেন শিক্ষক প্রেমচন্দ্র তর্কবাগীশ

বিভিন্ন সামাজিক কাজকর্মেও জড়িয়ে আছে বড়মা পুজো কমিটি। পূজোর চারদিনে যে কয়েকশো কিলো ফল বড়মাকে দেয় ভক্তরা তা পরদিনই নৈহাটি হাসপাতাল ও বৃদ্ধাশ্রমে বিলি করে দেয়া হয়। ভক্তদের দান করা কয়েক হাজার শাড়ি রাসপূর্ণিমার দিন এলাকার দুঃস্থদের দান করা হয়। সম্প্রতি ভক্তদের দান করা টাকায় অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবাও শুরু করেছে পুজো কমিটি।

হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, বঙ্কিমচন্দ্র, সমরেশ, শ্যামল মিত্র এসব আজ অতীত…… নৈহাটি মানে এখন বড়মা।

‌🌹 জয় মা ! ‌‌🌹

লেখক – স্বপন সেন

বাংলা আমার প্রাণ

বাংলা আমার প্রাণ

"বাংলা আমার প্রাণ" বাংলা ও বাঙালির রীতিনীতি,বিপ্লবকথা,লোকাচার,শিল্প ও যাবতীয় সব কিছুর তথ্য প্রকাশ করে।বাংলা ভাষায় বাংলার কথা বলে "বাংলা আমার প্রাণ"। সকল খবর ও তথ্য আপনাদের কেমন লাগছে,তা আপনাদের কতোটা মন ছুঁতে পারছে তা জানতে আমরা আগ্রহী।যাতে আগামী দিনে আপনাদের আরো তথ্য উপহার দিতে পারি। আপনাদের মতামত ওয়েবসাইটে প্রকাশ করুন,আরো এগিয়ে যাওয়ার পথে এটিই আমাদের পাথেয়। বিন্দু বিন্দুতে সিন্ধু গড়ে ওঠে।আর তাই আজ আপনাদের ভালোবাসা সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণায় আমরা এক বৃহৎ পরিবার।এখনো বহু পথ চলা বাকি তাই আপনাদের সাধ্য ও বিবেচনা অনুযায়ী অনুদান দিয়ে এই পেজের পাশে থাকুন। আমাদের পেজে প্রকাশিত সকল তথ্য আমরা একে একে নিয়ে আসছি আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে ভিডিও আকারে।দয়া করে আমাদের পেজ ও ওয়েবসাইট থেকে প্রকাশিত কোনো তথ্য বা লেখা নিয়ে কোনো ভিডিও বানাবেন না।যদি ইতিমধ্যে তা করে থাকেন তবে তা অবিলম্বে মুছে ফেলুন। আমাদের সকল কাজ DMCA কর্তৃক সংরক্ষিত তাই এ সকল তথ্যাদির পুনর্ব্যবহার বেআইনি ও কঠোর পদক্ষেপ সাপেক্ষ।ধন্যবাদ।

করোনাকে না করো

ভাইরাসের কবলে আজ সারা বিশ্ব,গৃহবন্দী বিশ্ববাসী।বন্ধ দ্বার খুলতে তাই নিজেদের সুরক্ষিত রাখুন,হাত ধুয়ে নেমে পড়ুন এই ভাইরাস দমনে।