রেসিপি লুকোতে রাত্রিবেলা দরজা বন্ধ করে সরভাজা আর সরপুরিয়া বানাতেন অধরচন্দ্র দাস

রেসিপি লুকোতে রাত্রিবেলা দরজা বন্ধ করে সরভাজা আর সরপুরিয়া বানাতেন অধরচন্দ্র দাস

নদীয়া জেলার সদর হলো কৃষ্ণনগর, আর কৃষ্ণনগর বললেই মনে আসে সরভাজা আর সরপুরিয়া । একশো বছর আগে যারা জন্ম নিয়েছিল অধরচন্দ্র দাসের মিষ্টির দোকানে ।
কৃষ্ণনগরের পাঁচটি প্রধান দ্রষ্টব্য স্থানগুলোর মধ্যে রাজবাড়ি, ঘূর্ণি, ক্যাথলিক চার্চ আর কলেজের সঙ্গে এখন ‘অধর মিষ্টান্ন প্রতিষ্ঠান’-ও জায়গা করে নিয়েছে। গোটা কৃষ্ণনগর ঘুরে দেখার পর ফেরার আগে বাড়ির জন্য অধর থেকে বাক্স ভর্তি সরভাজা-সরপুরিয়া নেওয়া মাস্ট। বাঙালি তো বটেই, এখন বিশ্বায়নের গুণে সারা পৃথিবীতেই অধরের জয়জয়কার। এখানকার সরভাজা সরপুরিয়া তো এখন বিদেশে পাড়ি দিচ্ছেই, তার পাশাপাশি ক্ষীরপুলি, নিখুতি, শ্রীমতী, রসকদম্ব, রোলক্রিম, কাঁচাগোল্লা, ছানার মুড়কি, ব্যানাক ডায়মন্ডের মতো বিভিন্ন মিষ্টি আর নোনতা খাবারও বেশ জনপ্রিয় এখন।

আরো পড়ুন:  প্রায় দুশো বছরের প্রাচীন ‘মাখনলাল দাস এন্ড সন্স’ - এ আজও পাওয়া যায় দু টাকা দামের সন্দেশ

তবে সরভাজা-সরপুরিয়ার জন্যই অধরের নামডাক। যদিও এর প্রাচীনত্ব নিয়ে বিতর্ক আছে। লোকমুখে প্রচলিত চৈতন্যদেব তিন ধরনের সরের মিষ্টি খেতেন, তার একটি ছিল সরপুপী বা সরপুরিয়া। এর উল্লেখ আছে কৃষ্ণদাস কবিরাজের ‘চৈতন্যচরিতামৃত’-তে। অদ্বৈত আচার্য নাকি চৈতন্যদেবকে নিজের হাতে সরপুরিয়া খাওয়াতেন। আবার অনেকে মনে করেন, কৃষ্ণনগরের অধরচন্দ্র দাসই সরপুরিয়ার আবিষ্কর্তা। যদিও কারো কারো মতে অধরচন্দ্রের বাবা সূর্যকান্ত দাস প্রথম এই মিষ্টি তৈরি করেছিলেন। শোনা যায়, তিনি রেসিপি চুরি যাওয়ার ভয়ে রাতে দরজা বন্ধ করে সরভাজা আর সরপুরি তৈরি করতেন আর পরের দিন সকালে মাথায় নিয়ে ফেরি করতেন সেগুলো। তাঁর ছেলে অধরচন্দ্র সরভাজা আর সরপুরিয়ার রেসিপি শিখে নেন বাবার কাছ থেকে। ১৯০২ সালে তিনি কৃষ্ণনগরের নেদের পাড়ায় নিজের মিষ্টির দোকান খুলে বসেন। অধরচন্দ্রও বাবার মতো গোপনে রাত্তিরবেলা সরভাজা-সরপুরিয়া বানাতেন। কিন্তু মিষ্টি তৈরির গন্ধ ছড়িয়ে পড়ত গোটা অঞ্চলে। গন্ধের টানে মৌমাছির দল গুনগুন করত গোটা বাড়িতে। এই গোপনীয়তা বেশিদিন বজায় থাকেনি। এক সময়ে সরভাজা-সরপুরিয়ার ফরমুলা লিক হয়ে যায়। তারপর আসেপাশের অন্যান্য দোকানেও এই মিষ্টি তৈরি হতে থাকে ।

আরো পড়ুন:  বড়লাটের বউ এর জন্মদিনে ভীমচন্দ্র নাগ তৈরী করলেন নতুন মিষ্টি "লেডিকেনি"

সরপুরিয়াতে থাকে ছানা, দুধের সর, ক্ষীরের সঙ্গে কাঠবাদাম, পেস্তা, ছোটো এলাচ আর চিনি। খাঁটি দুধ অনেকবার জ্বাল দিয়ে তার ঘন সরকে একের পর এক স্তরে রাখা হয়। সেই মোটা সরকে তারপর ঘিয়ে ভেজে তার ওপর খোয়া ক্ষীর, কাঠবাদাম, পেস্তা, এলাচ ছড়িয়ে আবার এক স্তর সর রাখা হয় তার ওপর। সব শেষে চিনি মেশানো দুধে রাখা হয় তাকে। সরভাজা তৈরিতেও দুধের সর, ক্ষীর আর চিনি লাগে। চৈতন্যদেবের সময় আখের রস জ্বাল দিয়ে তার থেকে তৈরি টাটকা চিনি থেকে এগুলো তৈরি হত বলে জানা যায়।

আরো পড়ুন:  মালদার "রসকদম্ব" মিষ্টির সঙ্গে জড়িয়ে আছে স্বয়ং শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর স্মৃতি

এতো কান্ডের পর পছন্দ অবশ্য আপনার…..
দেবতারাও জুলজুল করে তাকিয়ে থাকেন যে মিষ্টির দিকে ভোগের জন্য সেটা খাবেন, না টাকা দিয়ে হলদীরামের বেসন লাড্ডু খাবেন ! ‌🙄🙄

লেখক – স্বপন সেন

তথ্য সৌজন্য: বঙ্গদর্শন ।

বাংলা আমার প্রাণ

বাংলা আমার প্রাণ

"বাংলা আমার প্রাণ" বাংলা ও বাঙালির রীতিনীতি,বিপ্লবকথা,লোকাচার,শিল্প ও যাবতীয় সব কিছুর তথ্য প্রকাশ করে।বাংলা ভাষায় বাংলার কথা বলে "বাংলা আমার প্রাণ"। সকল খবর ও তথ্য আপনাদের কেমন লাগছে,তা আপনাদের কতোটা মন ছুঁতে পারছে তা জানতে আমরা আগ্রহী।যাতে আগামী দিনে আপনাদের আরো তথ্য উপহার দিতে পারি। আপনাদের মতামত ওয়েবসাইটে প্রকাশ করুন,আরো এগিয়ে যাওয়ার পথে এটিই আমাদের পাথেয়। বিন্দু বিন্দুতে সিন্ধু গড়ে ওঠে।আর তাই আজ আপনাদের ভালোবাসা সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণায় আমরা এক বৃহৎ পরিবার।এখনো বহু পথ চলা বাকি তাই আপনাদের সাধ্য ও বিবেচনা অনুযায়ী অনুদান দিয়ে এই পেজের পাশে থাকুন। আমাদের পেজে প্রকাশিত সকল তথ্য আমরা একে একে নিয়ে আসছি আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে ভিডিও আকারে।দয়া করে আমাদের পেজ ও ওয়েবসাইট থেকে প্রকাশিত কোনো তথ্য বা লেখা নিয়ে কোনো ভিডিও বানাবেন না।যদি ইতিমধ্যে তা করে থাকেন তবে তা অবিলম্বে মুছে ফেলুন। আমাদের সকল কাজ DMCA কর্তৃক সংরক্ষিত তাই এ সকল তথ্যাদির পুনর্ব্যবহার বেআইনি ও কঠোর পদক্ষেপ সাপেক্ষ।ধন্যবাদ।

করোনাকে না করো

ভাইরাসের কবলে আজ সারা বিশ্ব,গৃহবন্দী বিশ্ববাসী।বন্ধ দ্বার খুলতে তাই নিজেদের সুরক্ষিত রাখুন,হাত ধুয়ে নেমে পড়ুন এই ভাইরাস দমনে।