ইংরেজদের চোখরাঙানি উপেক্ষা করে গৌরমোহন দত্ত তৈরি করেছিলেন “বঙ্গজীবনের অঙ্গ” বোরোলিন

ইংরেজদের চোখরাঙানি উপেক্ষা করে গৌরমোহন দত্ত তৈরি করেছিলেন “বঙ্গজীবনের অঙ্গ” বোরোলিন

পরিবার নিয়ে বেড়াতে বাঙালি দিল্লি যাক বা বার্মা, টিকিট ছাড়া আর যেটা ব্যাগে থাকে তা হলো বোরোলিন !

বাঙালীর ঘরে একটু এদিক ওদিক খুঁজলে একটা বোরোলিনের টিউব তো পাওয়াই যাবে। আসলে আমাদের সব সমস্যার একটাই সমাধান……… , তা সে আঙুল কাটুক কি ঠোঁট ফাটুক ।

আজকাল ভারত সরকারের তরফে বারবার একটা কথা বলা হয়, মেক ইন ইন্ডিয়া। মানে ভারতীয়দের প্রয়োজনীয় সমস্ত কিছু তৈরী করতে হবে এদেশেই, বাইরে নয়। আর এই মেক ইন ইন্ডিয়ার সবচেয়ে বড় উদাহরণ হল বোরোলীন। এর চেয়ে প্রসিদ্ধ আইকনিক প্রডাক্ট ভারতে খুব কমই তৈরী হয়েছে।

ইতিহাসের পাতা উল্টে চলে যাই 1929 সালে, কলকাতায় প্রতিষ্ঠা হলো ‘জি ডি ফার্মাসিউটিকালস প্রাইভেট লিমিটেডের’। সংস্থার কর্নধার ছিলেন গৌর মোহন দত্ত। তাঁর নামের আদ্যাক্ষর দিয়েই কোম্পানির নাম । সময়টা তখন স্বদেশী আন্দলনের। শিক্ষিত বাঙালি পুড়িয়ে দিচ্ছে বৃটিশদের তৈরী জিনিসপত্র, জোর দেওয়া হচ্ছে দেশজ পণ্যের উপর। দত্ত মশাই এই স্বদেশী আন্দলনের দ্বারা ভীষনভাবে প্রভাবিত হন আর তারই ফলে জন্ম নেয় আমাদের খুব চেনা আর পরিচিত ক্রিম বোরোলীন ।

আরো পড়ুন:  বাঙালি অলস ? বাঙালি অকর্মণ্য ?

বোরোলীনের প্রধান তিনটি উপাদান হল আ্যন্টি সেপটিক  বোরিক এসিড,জিঙ্ক অক্সাইড এবং আ্যনহাইড্রাস ল্যানরি। নামকরণ করা হয়েছে বোরিক পাউডার ও তেলের ল্যাটিন শব্দ ওলিনকে একত্রিত করে । স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় মালিক গৌরমোহন দত্তের উত্তর কলকাতার বাড়িতে বোরোলিন মজুত করে রাখা হোত। এখনও মানুষ সেই বাড়িকে ‘দ্যা বোরোলীন হাউস’ নামেই চেনে।

আরো পড়ুন:  সুভাষ চক,সুভাষ বাউলি কিংবা মেহর হোটেল-ডালহৌসির সর্বত্রই শুধু একটাই সুর শোনা যায় ''নেতাজী''

বোরোলিনের লোগোটা নিশ্চয়ই খেয়াল করেছেন…. 🐘 হাতি  !

এ নিয়েও একটা গপ্প আছে। হাতি হলো শক্তি ও স্থিতিশীলতার প্রতীক। আর এই স্থিরতা এতটাই দৃঢ়, যে বাজারে হাজারো কোম্পানি এলেও কিংবা তাকে নকল করতে চেষ্টা করলেও, তার জায়গা থেকে কেউ এক চুলও নাড়াতে পারেনি। তাইতো দেশী বিদেশী নামীদামী প্রসাধনীর ভীড়ে আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে, “সুরভিত আ্যন্টিসেপটিক ক্রীম বোরোলীন !”

স্বদেশী যুগে এই ক্রিম ব্যাবহার করা ছিল বেশ গর্বের। এমন একটি জিনিস, যা তৈরী হয়েছে ভারতে অথচ গুনগত মান বৃটিশদের তৈরী জিনিসের থেকেও ভালো।

আরো পড়ুন:  টাকা ধার করে শুরু করেছিলেন ব্যবসা,আজ বাংলার বাজি ব্যবসায় এক নম্বর জায়গাটি পাকা "বুড়িমা"র

ভারত যেদিন স্বাধীনতা পেল, ঠিক তার আগের দিন প্রায় প্রতিটা দৈনিক সংবাদপত্রে বোরোলীনের বিজ্ঞাপন বেরিয়েছিল। ঘোষণা করা হয়েছিল পরদিন অর্থাৎ স্বাধীনতার দিন বিন্যামূল্যে প্রত্যেক কে একটি করে বোরোলীনের টিউব দেওয়া হবে। কথা রেখেছিলেন তারা । কলকাতার দুটি আউটলেট থেকে প্রায় এক লক্ষের বেশী বোরোলীন বিতরণ করা হয়েছিল সেদিন সাধারন মানুষের মধ্যে।

2015-16 অর্থবর্ষে জি ডি ফার্মাসিউটিক্যালস এর লেনদেন ছিল প্রায় দুশো কোটি টাকা। একই সময়ে বোরোলীন ‘ইন্ডিয়াস মোস্ট এডমায়ার’ প্রডাক্টের শিরোপাও জিতে নেয়। বিদেশে যাচ্ছে আজ বাঙালির ঘরের ক্রিম ।

কে বলে বাঙালির দ্বারা ব্যবসা হয় না ?? ‌🌹🌹

লেখক – স্বপন সেন

বাংলা আমার প্রাণ

বাংলা আমার প্রাণ

"বাংলা আমার প্রাণ" বাংলা ও বাঙালির রীতিনীতি,বিপ্লবকথা,লোকাচার,শিল্প ও যাবতীয় সব কিছুর তথ্য প্রকাশ করে।বাংলা ভাষায় বাংলার কথা বলে "বাংলা আমার প্রাণ"। সকল খবর ও তথ্য আপনাদের কেমন লাগছে,তা আপনাদের কতোটা মন ছুঁতে পারছে তা জানতে আমরা আগ্রহী।যাতে আগামী দিনে আপনাদের আরো তথ্য উপহার দিতে পারি। আপনাদের মতামত ওয়েবসাইটে প্রকাশ করুন,আরো এগিয়ে যাওয়ার পথে এটিই আমাদের পাথেয়। বিন্দু বিন্দুতে সিন্ধু গড়ে ওঠে।আর তাই আজ আপনাদের ভালোবাসা সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণায় আমরা এক বৃহৎ পরিবার।এখনো বহু পথ চলা বাকি তাই আপনাদের সাধ্য ও বিবেচনা অনুযায়ী অনুদান দিয়ে এই পেজের পাশে থাকুন। আমাদের পেজে প্রকাশিত সকল তথ্য আমরা একে একে নিয়ে আসছি আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে ভিডিও আকারে।দয়া করে আমাদের পেজ ও ওয়েবসাইট থেকে প্রকাশিত কোনো তথ্য বা লেখা নিয়ে কোনো ভিডিও বানাবেন না।যদি ইতিমধ্যে তা করে থাকেন তবে তা অবিলম্বে মুছে ফেলুন। আমাদের সকল কাজ DMCA কর্তৃক সংরক্ষিত তাই এ সকল তথ্যাদির পুনর্ব্যবহার বেআইনি ও কঠোর পদক্ষেপ সাপেক্ষ।ধন্যবাদ।

Related post

করোনাকে না করো

ভাইরাসের কবলে আজ সারা বিশ্ব,গৃহবন্দী বিশ্ববাসী।বন্ধ দ্বার খুলতে তাই নিজেদের সুরক্ষিত রাখুন,হাত ধুয়ে নেমে পড়ুন এই ভাইরাস দমনে।