ব্রিটিশদের অত্যাচারী শাসনের বিরুদ্ধে শিক্ষকদের ঐক্যবদ্ধ করতে জন্ম নিয়েছিল এবিটিএ

ব্রিটিশদের অত্যাচারী শাসনের বিরুদ্ধে শিক্ষকদের ঐক্যবদ্ধ করতে জন্ম নিয়েছিল এবিটিএ

আচ্ছা স্কুল জীবন মনে পড়লে কী কী মাথায় আসে বলুন তো? বন্ধু, শিক্ষক, ক্লাসরুম, খেলার মাঠ, স্কুলের বাইরের হজমি গুলি….. কী তাই তো ? এইসব ছাড়া স্কুলজীবন ভাবাই যায় না | তবে এগুলো ছাড়াও কিন্তু আরেকটা জিনিস আছে যা আমাদের বেশিরভাগের স্কুল জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে | তা হল আমাদের সবার বহু কাঙ্খিত এবিটিএ’র টেস্ট পেপার | মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিকের আগে এবিটিএ’র এই টেস্ট পেপার ছাড়া পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতি পূর্ণ হয় না | নতুন তো বটেই, এমনকী পুরানো টেস্ট পেপারও নিজেদের সংগ্রহে রাখতে চায় ছাত্র ছাত্রীরা |

আসলে জীবনের বড় পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য এবিটিএ টেস্ট পেপারের বিকল্প আজও তৈরি হয়নি পশ্চিমবঙ্গে | আচ্ছা এই টেস্ট পেপার তো আমরা সবাই পড়েছি | কিন্তু কখনও জানতে চেয়েছি কি এই টেস্ট পেপারের ইতিহাস | চলুন আজ তবে সেই ইতিহাসে একটু উঁকি মারি |

আরো পড়ুন:  ব্যরিস্টার রাসবিহারী ঘোষই ছিলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের অন্যতম কারিগর

ইতিহাসের শুরুতেই বলে রাখি, এই এবিটিএ-কে কেবল একটি প্রকাশনা সংস্থা ভাবলে কিন্তু বড় ভুল হবে। এশিয়ার প্রাচীনতম শিক্ষক সংগঠন এটি। আর এই বছরই এর শতবর্ষ পূর্ণ হল। সেই ব্রিটিশ আমলে অসহযোগ আন্দোলনে তখন সারা দেশ উত্তাল। তারই মধ্যে লাগু হল মন্টেগু-চেমসফোর্ড শাসন সংস্কার, যা প্রস্তাবিত হয়েছিল ১৯১৯ সালে। এই নতুন আইনে শিক্ষকদের ওপর নেমে আসে দমননীতি। সক্রিয় রাজনীতিতে ইতিমধ্যেই যুক্ত হয়েছিলেন বহু শিক্ষক। তাঁরা চাইছিলেন ব্রিটিশ সরকারের অত্যাচারী শাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে। সেই ভাবনার জেরে ১৯২১ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ২২ জন শিক্ষক জোট বাঁধলেন। তৈরি হল ‘নিখিল বঙ্গ শিক্ষক সমিতি’ (‘অল বেঙ্গল টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন’ বা সংক্ষেপে ‘এবিটিএ’)।

এবিটিএ’র প্রথম সভাপতি হলেন ঈশানচন্দ্র ঘোষ এবং প্রথম সম্পাদক মনোরঞ্জন সেনগুপ্ত | এবিটিএ’র অগ্রগতিতে জান-প্রাণ লড়িয়ে দিয়েছিলেন এই দুইজন। রংপুরের গাইবান্ধা ইসলামিয়া হাইস্কুলে সেবছরই প্রথম সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। হাজির ছিলেন ১০০ জন শিক্ষিক। সভাপতির আসন গ্রহণ করেন বিজ্ঞানাচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়। এরপর ক্রমশ শিক্ষকদের এক গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হয়ে ওঠে এবিটিএ। শিক্ষাব্যবস্থা যাতে আরও উন্নত করা যায়, তা নিয়ে আরও ভাবনাচিন্তা শুরু করে। তাঁদের দাবি মেনেই প্রথম গড়ে ওঠে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেনেট।

আরো পড়ুন:  দীর্ঘদিনের কাজের স্বীকৃতি, WHO’র পোলিও সংক্রমণ গবেষণায় পরামর্শদাতা হলেন বিজ্ঞানী সেঁজুতি সাহা

সেই সময় একবার ব্রিটিশ প্রশাসন সিদ্ধান্ত নেয়, সরকারি স্কুলগুলি বন্ধ করে দেওয়া হবে। এবিটিএ-র ডাকে বাংলার সমস্ত স্কুলে একযোগে প্রতিবাদ শুরু হয়। সমর্থন জানায় ইংল্যান্ডের শিক্ষক সংগঠনগুলিও। শেষ পর্যন্ত ভারত সচিব স্যামুয়েল এই স্কুল বন্ধ করার সিদ্ধান্তের নিন্দা করতে বাধ্য হন। এছাড়া দেশভাগের অশান্ত সময়ে শিক্ষকদের দাবি আদায়ের জন্য বিজ্ঞানী মেঘনাদ সাহা এই সংগঠনের সম্মেলনে ধর্মঘটের ডাক দেন।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধিতে অবদান রেখেছে এবিটিএ-র আন্দোলন। ১৯৫২ সালে তাঁদের শিলিগুড়ি সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু। সম্মেলনে গৃহীত হয় নতুন গঠনতন্ত্র। বিধানচন্দ্র রায়ের আমলে শিক্ষকদের ন্যূনতম বেতনের দাবিতে এবিটিএ-র আহ্বানকে সমর্থন জানিয়ে সলিল চৌধুরী লিখলেন, “পথে এ বার নামো সাথী, পথেই হবে পথ চেনা” গানটি। এসপ্ল্যানেডে হাজার হাজার শিক্ষকের পাশে দাঁড়ালেন সাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, নাট্যব্যক্তিত্ব খালেদ চৌধুরীর মতো বিশিষ্টজনেরা। ১৯৫৪ সালের আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে আট জন নিহত হন। আন্দোলনে যোগ দিয়ে কারাবন্দি হন জ্যোতি বসু।

আরো পড়ুন:  বছরে দক্ষিণা দু’টাকা,সাড়ে তিনশো দরিদ্র ছাত্রছাত্রীকে শিক্ষাদান করছেন ৭৬ বছরের 'মাস্টারমশাই'

সেই শুরুর দিন থেকে নানা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে গেছে এবিটিএ | পরীক্ষার্থীদের সাহায্যের জন্য নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে | মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার আগে ছাত্র-সহায়তা শিবির হয় নিয়মিত ।এখন সারা রাজ্যে এবিটিএ-র প্রায় ৬৬ হাজার সদস্য। পড়ুয়া এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের স্বার্থে আজও নিরলস অবদান রেখে চলেছে এই এবিটিএ |

Piyali Banerjee

Piyali Banerjee

করোনাকে না করো

ভাইরাসের কবলে আজ সারা বিশ্ব,গৃহবন্দী বিশ্ববাসী।বন্ধ দ্বার খুলতে তাই নিজেদের সুরক্ষিত রাখুন,হাত ধুয়ে নেমে পড়ুন এই ভাইরাস দমনে।